পটুয়াখালী, বাউফল, দশমিনায় উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিক হাওলাদারের বাড়িতে
গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন একদল শ্রমিক। কেউ লোহার খুঁটি ধরেছিলেন, কেউ নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি খুঁটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হেলে পড়ে বিদ্যুতের প্রধান তারের ওপর। পরের কয়েক সেকেন্ড যেন মৃত্যু আর আতঙ্কের বিভীষিকাময় দৃশ্য।
বিদ্যুতের প্রচণ্ড ঝটকায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুই শ্রমিক। আহত হন আরও চারজন। শনিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিক হাওলাদারের বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় শ্রমিকরা একটি লোহার খুঁটি স্থাপন করছিলেন। খুঁটিটি হঠাৎ হেলে গিয়ে বিদ্যুতের প্রধান লাইনের তারের সঙ্গে স্পর্শ করলে মুহূর্তেই তা বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। খুঁটির সংস্পর্শে থাকা শ্রমিকরা ভয়াবহভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
ঘটনাস্থলেই মারা যান আলিপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের রুশনে আলী প্যাদার ছেলে মো. বেল্লাল (৪০) এবং ঢাকার কদমতলী থানার মুজাহিদনগর এলাকার মো. ইউসুফ (৩০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যুতের তীব্র ঝলকানি ও বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কয়েকজন শ্রমিক। কেউ বুঝে ওঠার আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়।
সহকর্মীদের উদ্ধারে ছুটে গিয়ে আহত হন রাকিব হোসেন (১৭), রনি (১৮), মারুফ (১৯) ও রিফাত (২১)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসীম সমদ্দার বলেন, গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় লোহার খুঁটি বিদ্যুতের প্রধান তারে আটকে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সকালেও যারা জীবিকার তাগিদে কাজে বেরিয়েছিলেন, সন্ধ্যায় তাদের নিথর দেহ ফিরে আসে পরিবারের কাছে।
নিহত বেল্লালের স্বজনরা জানান, পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। অন্যদিকে ইউসুফও জীবিকার সন্ধানে ঢাকার কর্মস্থল ছেড়ে এই কাজে এসেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর ফেরা হলো না তাদের।
দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া দুই শ্রমিকের শেষ কর্মদিবস হয়ে রইল শনিবার। বিদ্যুতের এক ঝলক কেড়ে নিল দুটি পরিবারে হাসি, রেখে গেল শোক আর দীর্ঘশ্বাসের গল্প।