বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের চামটা, গারুড়িয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ ও কবাই ইউনিয়নের লক্ষীপাশা এই তিনটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় সেগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্রগুলো তালাবদ্ধ রয়েছে। যে কারণে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে এসব এলাকায় দিন দিন বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে ভুগছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা দূরবর্তী শহরে যেতে হচ্ছে। এতে করে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
নিয়ামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, নিয়ামতি একটি বৃহত্তম ইউনিয়ন উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। অনেক সময় রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়। বিশেষ করে এই এলাকার শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু না হলে এই অঞ্চলের মানুষ দিন দিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সরকার গ্রামাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করলেও বাস্তবে তা কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজরদারি নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। দ্রুত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চালু করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার সুমি আক্তারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বরিশাল সিভিল সার্জন ডাঃ এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী বলেন, জনবল সংকটসহ কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো চালু করে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।